বাঁকুড়ার বার্তা : মাধ্যমিকে নম্বর নিয়ে যখন চলছে কাটা ছেঁড়া, কে প্রথম কোন জেলা প্রথম এই সব নিয়ে। তখন বড়জোড়ার অভয় পাল, লখিন্দর ঘোষ ওরা পরীক্ষা দিয়েছিল বটে কিন্তু ওদের এই সব নিয়ে নেই কোন মাথা ব্যাথা,মাধ্যমিকে পাশও করেও ওরা যেন নিবিকার। কিন্তু ওদের জন্য গর্বিত তাদের শিক্ষক, শিক্ষিকা, মা-বাবা, পাড়া প্রতিবেশী। আসলে জীবন যুদ্ধে তাদের লড়াইটা অসম। পারিবারিক দারিদ্রতা, আর তার সঙ্গে দেহের শ্রবণ জনিত ত্রুটি। সব বাধা অতিক্রম করে আজ তারা মাধ্যমিক পাশ। তবে এর পেছনে মা বাবার কঠিন পরিশ্রম ছাড়াও যাদের কথা না বললেই নয় তারা হলেন বড়জোড়া আশার আলো সংস্থার শিক্ষক-শিক্ষিকা, ও অশিক্ষক সমস্ত কর্মীর অক্লান্ত পরিশ্রম। আশার আলোর কর্মীরা দীর্ঘ দিন ধরেই এই ভাবেই এই সমস্ত বিশেষ চাহিদা সম্পন্ন ছেলে মেয়েদের সন্তান সম ভালোবেসে মানুষ গড়ার কাজ করে চলেছেন।
আশার আলোর প্রতিষ্ঠাতা শ্রীমতি সোমা মুখার্জি আমাদেরকে জানিয়েছেন
"অভয় পাল ও লখীন্দর ঘোষ আজ মাধ্যমিক পরীক্ষায় উত্তীর্ণ। এদের দুজনেই পশ্চিমবঙ্গ মধ্য শিক্ষা পর্ষদের মেধাতালিকায় একেবারে পিছনের সারিতে।যারা শতকরা হিসাবের ধার ধারে না, কতটা পিছিয়ে থেকে জীবন শুরু করলো,তার পরোয়া করে না,জন্ম থেকেই লড়াই করেছে শ্রবণ জনিত প্রতিবন্ধকতা, দারিদ্র্য ও সামাজিক অসমতার সঙ্গে - হাতিয়ার করেছিল বড়জোড়া আশার আলো নামক প্রতিবন্ধী প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের শিক্ষক শিক্ষিকাদের অক্লান্ত পরিশ্রম ,জেদ ও নিজেদের ইচ্ছা শক্তির উপর- তারা আজ সফল।এর থেকে আনন্দের খবর আর কি হতে পারে? আমি ভীষন খুশী,এ খুশীর ভাগ হবে না"।

কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন